বারুইপুর রাজবাড়ির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

বারুইপুর রাজবাড়ির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস 

বারুইপুরের ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, তৎকালীন নবাবের কাছ থেকে সুবিস্তৃত এলাকা যৌতুক হিসেবে পান জমিদার রাজবল্লভ চৌধুরী ।এক বিঘা দুই বিঘা নয়, জমিদারি ছিল বারুইপুর থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত বিস্তৃত ।রাজা রাজবল্লভ রায়চৌধুরী লর্ড কর্নওয়ালিসের জমানায় বিদেশি কোম্পানিকে দিয়ে এক বিশাল রাজবাড়ি তৈরি করান । 
কী না হত সেই রাজবাড়িতে ? বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ । তার প্রায় প্রত্যেকটিই পালিত হত রাজকীয় ভাবে । দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে রথযাত্রা।

তিনশো বছরেরও প্রাচীন এই পুজো । রাজা রাজবল্লভ রায়চৌধুরী রাজবাড়িতে দুর্গাপুজোর প্রচলন করেছিলেন। তিনজন পুরোহিত মিলে দুর্গাপুজো করেন । সপ্তমী থেকে নবমী নিশি পর্যন্ত প্রতিদিন বলি হয় । নিয়ম মেনে ছাগ বলি হয় ওই তিনদিন ।

এখানে বেশ কয়েকটি ঘর রয়েছে যেগুলি যুগ যুগ ধরে তালাবন্ধ হয়ে পড়ে আছে । খোলা হয় না কখনও । তার মধ্যে একটি ঘর নাকি রানির অর্থাৎ জমিদার গিন্নির । একটি ছোট সিঁড়ি আছে । সেই সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে অনেকেই নানা অনুভূতির শিকার হয়েছেন । 

জমিদারি নেই, তবুও বারুইপুরের রায়চৌধুরী বাড়ির পুজোর জৌলুস বিন্দু মাত্র কমেনি। প্রাচীন রীতি মেনে তিনশো বছর এর ঐতিহ্যবাহী পুজো হয় ভেঙে পড়া জমিদারবাড়ির দুর্গামন্দিরে।। আজও মহাদেবকে আগাম খবর দিতে দশমীতে ওড়ানো হয় নীলকণ্ঠ পাখি।

পুরাণ মতে দুর্গার বিসর্জনের পরেই নীলকণ্ঠ পাখি কৈলাশে গিয়ে মহাদেবকে খবর দেন মা দশভূজা স্বর্গে ফিরছেন। সেই বিশ্বাসে প্রতিবছর বারুইপুর আদি গঙ্গার জলে প্রতিমার বিসর্জনের সময় দুটি করে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ান বারুইপুর রায়চৌধুরী বাড়ির কর্তারা। 

সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও একসময় কিছুদিন বারুইপুরের এই জমিদার বাড়িতে এসেছিলেন ।এই বাড়িতে বসেই তিনি ‘দুর্গেশনন্দিনী’ উপন্যাস লেখা শুরু করেছিলেন। যে টেবিল, চেয়ারে বসে লিখেছিলেন সেটা এখনও রাখা আছে জমিদার বাড়িতে।