বাসস্ট্যান্ডের একদম কাছে তমলুক মিউজিয়াম। মহাপ্রভুর মন্দির দেখে পায়ে পায়ে চক্রেশ্বর শিবমন্দির দেখে মিউজিয়ামে আসা যায়। তাম্রলিপ্ত সংগ্রহশালা ও গবেষণা কেন্দ্রটি তমলুক শহরের একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান। ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের ১৭ ডিসেম্বর তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন উপলক্ষে এই সংগ্রহশালা উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশংকর রায়। তমলুক এবং তার আশপাশ থেকে যেসব পুরাবস্তু মাটির তলা থেকে পাওয়া গেছে সেগুলি রাখা আছে এই মিউজিয়ামে। তমলুক থেকে ১৪-১৫ কিলোমিটার দূরে রূপনারায়ণের তীরবর্তী নাটশাল অঞ্চল থেকে প্রস্তর যুগের বহুপুরাবস্তু আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলিরও স্থান হয়েছে এই মিউজিয়ামে।মিউজিয়ামে রাখা আছে আদিম মানুষের ব্যবহৃত প্রস্তরীভূত হাড়, পাথরের অস্ত্রশস্ত্র, হরিণের শিংয়ের ওপর খোদাই করা নকশাযুক্ত আসবাব, তামা ও হাড়ের অস্ত্রশস্ত্র, পোড়ামাটির মূর্তি, প্রাচীন তাম্রপট্ট, প্রথম বা দ্বিতীয় শতাব্দীতে তৈরি মাটির গরুর গাড়ি, টেরাকোটার যক্ষী মূর্তি (দ্বিতীয় খ্রিস্ট পূর্বাব্দে), জাতকের কাহিনি সংবলিত পোড়ামাটির কয়েকটি ফলক, প্রাচীন কিছু প্রস্তর ভাস্কর্য। এছাড়াও এখানকার উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ হল ব্রাহ্মী লিপি উৎকীর্ণ হাঁড়ি, প্রাচীন তাম্রপট্ট, ব্রোঞ্জ নির্মিত ক্ষুদ্রাকৃতি দেবীমূর্তি ও প্রাচীন প্রস্তর ভাস্কর্যের নিদর্শন হিসাবে বেশ কিছু মূর্তি। তালপাতায় লেখা পাণ্ডুলিপি, পটচিত্র, রোমানদের ব্যবহৃত কিছু দ্রব্যাদি ইত্যাদিও মিউজিয়ামের বিশেষ আকর্ষণ। মিউজিয়ামের কক্ষগুলি যুগ অনুযায়ী পর পর সাজানো। এটি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শুক্রবার বন্ধ। কোনও প্রবেশমূল্য নেই। তমলুকে রাত্রিবাসের ঠিকানা : শান্তিনিকেতন লজ, বাদামতলা, তমলুক ও মনময়ী লজ, হাসপাতাল মোড়, তমলুক।