পুরুলিয়া ঘোরার অভিজ্ঞত শেয়ার করলাম


প্রথমেই বলি পাহাড় আমার ভালোবাসা। তাই সমুদ্রের থেকে পাহাড়ের প্রতি টান আগাগোড়াই একটু বেশি। সে পাহাড়ের উচ্চতা বড় হোক কি ছোট।
    
দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে হঠাৎ করেই বেড়িয়ে পড়েছিলাম পলাশে রাঙা লাল মাটির দেশ পুরুলিয়ার উদ্দেশ্যে। হাওড়া  চক্রধরপুর পেসেঞ্জার ধরে বরাভূমের পথে ১২:৪৫ মি. এ হাওড়া থেকে ছাড়ল, আর পরের দিন সকাল ৭:৩০ মি. এ  নামিয়ে দিল আমাদের গন্তব্যে ( সময়ের থেকে অনেকটাই দেরিতে ছাড়ার কারণে আমাদের পৌঁছতেও একটু দেরি হয়েছিল) ।

হাতে মাত্র ২ দিন (ফেরা নিয়ে)।তাই আমাদের  সমস্ত জায়গাগুলো হয়তো ঘুরে দেখা সম্ভব হয়নি কিন্তু যেগুলো আমরা দেখেছি সেগুলো এক কথায় অনবদ্য। 

প্রথমেই আমরা রিসর্টে ঢুকে ব্রেকফাস্ট ( কম্প্লিমেন্টারি ) কমপ্লিট করে বেরিয়ে পড়েছিলাম আমাদের প্রথম দিনের জন্য নির্ধারিত স্থানের উদ্দেশ্যে । আমরা প্রথম যাই লহরিয়া শিব মন্দির, লহরিয়া ড্যাম, সাথে আপার ড্যাম, লোয়ার ড্যাম।  যেতে যেতে সেখানে দুপুর গড়িয়ে গেছিল তাই আমরা যাওয়ার পথে একটা খুব ছোট্ট নিরিবিলি রিসোর্টে দুপুরের ভুড়ি ভোজটা সেড়ে নিয়ে পরবর্তী গন্তব্য মার্বেল লেকের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পরলাম। তারপর মার্বেল লেক দেখে অবশেষে পৌঁছে গেলাম সব থেকে আকর্ষণীয় বামনি ফলস্-এ। সেখানে বেশ কিছুটা চড়াই উতরাই পার করে যখন শেষ পর্যন্ত আমরা পাহাড়ের একদম নিচে জলপ্রপাতের  জায়গায় পৌঁছেছিলাম তখন সেই অপরূপ শোভা আমাদের সব পথশ্রম ভুলিয়ে দিল। হয়তো একটু কষ্ট হয়েছে ঠিক কথাই, কিন্তু না নামলে এই দৃশ্যটা সত্যিই আমরা মিস করে যেতাম। তারপর তুগরা ফলস্। দেখতে দেখতেই বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছিল। যেহেতু আমাদের রিসর্টটা ছিল মাঠা জঙ্গলের ভিতর। তাই হাতি প্রভৃতি বন্যজীবের সাক্ষাত এড়াতে সন্ধ্যা নামতেই রিসর্টে ফিরে এলাম। 

তারপর আমরা ফ্রেস হয়ে আড্ডার আসরে যোগ দি। সেখানে ছিল আমাদের চিকেন বারবিকিউ, Damsaras game, গান এবং  বাচ্চাদের নিজস্ব ট্যালেন্টের প্রদর্শন। আমরা একসঙ্গে খুব আনন্দ করলাম।  এইভাবে যে একটা দিন কিভাবে কেটে গেল  বোঝাই গেল না।

পরের দিন সকাল সকাল উঠে আমরা পাড়ি দিলাম গড় সার্কিটের উদ্দেশ্যে। সেই দিনই আবার আমাদের বাড়ি ফিরে আসার পালা। 

এই সার্কিটের রাস্তাটা যেতে যেহেতু অনেকটা সময় লাগার কথা তাই আমরা দশটার মধ্যে ব্রেকফাস্ট কমপ্লিট করে বেরিয়ে পড়েছিলাম আমাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। 

যাত্রা শুরু করার প্রথমেই আমরা যেখানে গেলাম সেটা মাঠা পাহাড়। সিঁড়ি ভেঙে সেই পাহাড়ের ওপরে ওঠার অভিজ্ঞতাটা বেশ ভালো এবং তার মাথার ওপরে আছে একটা মন্দির।
তারপর লম্বা সফর সেরে আমরা পৌছলাম গড় পঞ্চকোটে ।সেখানে চারুলতা রিসোর্টে আমরা মধ্যাহ্নভোজন করে কিছুটা সময় কাটালাম। কিছুটা যে আক্ষেপ ছিল চরিদা গ্রাম অর্থাৎ মুখোশ গ্রাম না যেতে পারার সেটা এখানে এসে কিছুটা লঘু হয়েছিল কারণ সেখানে থাকা ছোট ছোট দোকান গুলি থেকে আমরা কিছু  টুকিটাকি কেনাকাটি করার সুযোগ পেয়েছিলাম। পুরুলিয়া বিখ্যাত ছৌ নৃত্য সকলেই জানা। সেই মুখোশ আমরা সেখান থেকে পুরুলিয়া ভ্রমণের স্মৃতি হিসেবে সঙ্গে নিয়ে আসি। কেনাকাটি কোরে বেশ কিছুটা সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে বেরিয়ে পড়লাম পরবর্তী গন্তব্য জয়চন্ডী মাতার মন্দির বা জয়চন্ডী পাহাড়ের উদ্দেশ্যে।  সন্ধ্যার প্রাক্কালে সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে  আমরা পৌঁছে যাই আদ্রা স্টেশনে। আমাদের ট্রেন ছিল আদ্রা স্টেশন থেকে। তাই আমরা সেখানে পৌঁছে রেস্ট রুমে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে, ডিনার সেরে উঠে পড়ি বোকারো স্টিল সিটি এক্সপ্রেসে। ট্রেনের টাইম ছিল রাত ১০:৫০ মি.। পরের দিন ভোর ৪:৩০ মি. এ আমরা ফিরে এলাম হাওড়া স্টেশনে। তারপর পরস্পরকে বিদায় জানিয়ে বাড়ি ফিরলাম। 

তবে আবার আমরা একজোট হয়ে এইভাবে যে বেরিয়ে পড়বো সেটা আমাদের নিশ্চিত রইলো । 

হতে পারে আমাদের ট্রিপ টা খুব ছোট্ট এবং  কম সময়ের। তবে যে পরিমাণ আনন্দ করেছি এবং যে পরিমাণ আমরা সমস্ত বিষয়টাকে উপভোগ করেছি তা আমাদের মনের মনিকোঠায় সারা জীবন থেকে যাবে।

আপনাদের সুবিধার্থে মুনলাইট রিসর্ট ও গাড়ির ড্রাইভারের নাম্বারটা দিয়ে রাখলাম।
সম্পুর্ণ ভিডিও টা দেখার জন্য অনুরোধ রইলো