আনুমানিক ২০৬ বছর আগে রমাকান্ত কুন্ডুচৌধুরীর হাতে গোড়াপত্তন এই রাস উৎসবের। পূর্বে কুণ্ডু চৌধুরীদের বাড়ির ঠাকুর দালানে লক্ষ্মী - জনার্দনকে সাজানো হত । ঠাকুর বাড়ির সামনের মাঠে বিশাল চৌহদ্দিতে বসতরাসের মেলা । নানা মাটির পুতুলের সাহায্যে রামায়ণ , মহাভারত বা পুরাণের দৃশ্যাবলী সজ্জিত হত । প্রথম দিকে বিদ্যুতের আলো যখন ছিল না তখন হ্যাজাক বা গ্যাসের আলোয় রাসমঞ্চ থেকে উৎসব প্রাঙ্গণ আলোকিত করা হত ।শোনা যায়,বেঙ্গল-নাগপুর রেলওয়ে একসময় এই মহিয়াড়ী রাস উৎসবের জন্য একমাস বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করত। থাকতো পুতুল নাচের আয়োজন ,যাএাপালা,তরজা ও ভাদু গানের আসর। হাজার হাজার দর্শক সমাগমে এক মাস ধরে চলত রাসের মেলা । জমিদার রামকান্তের বাড়ির ঠাকুর দালানের সামনে প্রতি রাত্রেই বসত যাত্রা পালার আসর । ঠাকুর দালানের উঠোনে নটসূর্য অহীন্দ্র চৌধুরী , ছবি বিশ্বাস , জহর গাঙ্গুলী , পঞ্চু সেন প্রমুখ দিকপাল শিল্পীরা অভিনয় করে গেছেন । বাংলাদেশের রাজশাহি থেকে আসতেন সানাইবাদকেরা।বিজ্ঞানী সি ভি রমন এবং স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের পদধূলি পড়েছিল এই রাস উৎসবে।পারিবারিক লবণের ব্যবসার রমরমার সময় লক্ষ্মী- জনাদর্ন বিগ্রহ কে দেওয়া হত ৪৫মন চালের নৈবেদ্য। ১৯৮২ সাল থেকে রাস উৎসব বা যাত্রার বাহুল্যতা আস্তে আস্তে কমতে থাকে। মৌড়ি গ্রামের কুন্ডু চৌধুরীদের প্রবর্তিত এই রাসের রাশ অনেকটাই স্হানীয় ফুলবাগান স্পোর্টিং ক্লাবের হাতে।২০০ বছরেরও প্রাচীন এই রাসের চেহারা এখন পুরোপুরি বানিজ্যিক।
( কৃতজ্ঞতা স্বীকার :- রণতোষ মুখোপাধ্যায়। ছবি- শঙ্খ ভট্টাচার্য্য)