রসুলপুর নদীর মোহনার অদূরেই পেটুয়াঘাট মৎস্য বন্দর। নদীর অন্য পাড়ে হিজলি। গভীর সমুদ্রে ট্রলার নিয়ে ভেসে পড়ার আগে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে নাবিকদের একবার আসতেই হবে হিজলির পিরের ‘থানে’। বাবাসাহেবের কোর্টগোড়া। হাতে পুজোর থালা। তাতে গুড় বা চিনির সঙ্গে চালের গুঁড়ো মেশানো এক ধরনের শক্ত কড়কড়ে মিষ্টান্ন— ‘বাবাসাহেবের কড়কড়া’ বা ‘খুড়মা’। তার সঙ্গে তাঁর মাজারে চড়ানোর জন্য রঙিন কাপড়, গোলাপ জল আর ধূপ। মসজিদের প্রবেশ দ্বারে চৌকির উপর বসেন খাদেম বা সেবায়েত কমিটির সদস্যরা। তাঁরা দক্ষিণার বিনিময়ে খুড়মার পাত্রে ফুল দিয়ে বাবার উদ্দেশ্যে নিবেদন করেন। ধূপ জ্বেলে দিতে হবে রেলিং ঘেরা মাজারের বাইরে। গোলাপ জল ছিটিয়ে দিতে হবে থানে। আর রঙিন কাপড়টি পুজোর থালা থেকে নিয়ে হাফেজ সানোয়ার খান চড়িয়ে দেবেন মাজারে। নাবিক ভক্তরা জয়ধ্বনি দেবেন, ‘জয় বাবা মসন্দলি’।
সংক্ষিপ্ত আচার। কিন্তু অটল বিশ্বাস। লোককথা, গল্পকথা, প্রবাদ বাদ দিলেও এই একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের জয়যাত্রার যুগেও বহু মানুষ নানা বিপর্যয় থেকে উদ্ধারের কাহিনি শোনাবেন। সেই কাহিনি মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফেরার কাহিনি।
মসন্দলি বাবা কে? তিনি ঐতিহাসিক ব্যক্তি নবাব তাজ খাঁ মসনদ-ই-আলা। তাম্রলিপ্ত বন্দরের গরিমা তখন অস্তমিত। রূপনারায়ণ নদের মোহনা এবং ভাগীরথী নদীর পশ্চিম পাড় ঘেঁষে জেগে উঠছে একের পর এক দ্বীপ— মহিষাদল, গুমগড়, দোরো, কেওড়ামাল, খেজুরি, হিজলি। ১৬৮২-৮৪ খ্রিস্টাব্দে জর্জ হিরোনের মানচিত্রে দেখা যায়, খেজুরি ও হিজলি উভয়েই মূল ভূখণ্ড থেকে হিজলি নদী দিয়ে বিচ্ছিন্ন। খেজুরি ও হিজলির মাঝে কাউখালি নদী। তার আগে ১৬৬০ সালে ভ্যানডেন ব্রুকের মানচিত্রেও হিজলি দ্বীপের উল্লেখ রয়েছে।
https://youtu.be/nJZEwIGDeCM?si=dgfxscrMWbMzQJUq
